নিউজ ডেস্ক, সম্পাদনায়-আরজে সাইমুর রহমান:
রন্ধনশিল্প এখন আর কেবল রান্নাঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন একটি আধুনিক ও সম্মানজনক পেশা। এই শিল্পে নিজের মেধা ও সৃজনশীলতা দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রন্ধনশিল্পী নাজমা সরকার। শত বাধা পেরিয়ে এবং বয়সকে জয় করে তিনি আজ একজন সফল রন্ধন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্বদেশ টিভি ও স্বদেশ নিউজ২৪.কমের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সাইমুর রহমান এর সাথে একান্ত আলাপনে রন্ধনশিল্পী নাজমা সরকারের সফলতা ও পথচলা নিয়ে প্রতিবেদন।
শৈশবের স্বপ্ন ও পথচলা
আশুগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া নাজমা সরকারের শৈশব কেটেছে ঢাকা ও পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে। তার বাবা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মরহুম আব্দুল হামিদ এবং মাতা মরহুমা জাহানারা বেগম। ছোটবেলা থেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার তীব্র ইচ্ছা ছিল তার। সেই সুপ্ত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পায় তার মেয়ে, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শারমিন সুলতানা উপমার অনুপ্রেরণায়। মেয়ের উৎসাহেই তিনি পরিণত বয়সে এসে রন্ধনশিল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাফল্য
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নাজমা সরকার তার রন্ধন প্রতিভাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন অনলাইন মাধ্যমে। ‘নাজমা’স রেসিপি’ (Nazma’s Recipe) নামে নিজস্ব অনলাইন সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পদের খাবারের রন্ধনশৈলী প্রদর্শন করেন। অল্প সময়েই তিনি গ্রাহক ও দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া এবং প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নাজমা সরকার কেবল নিজের সাফল্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। সমাজকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে তার রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। তিনি ভবিষ্যতে একটি রন্ধন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন, যেখানে তরুণ সমাজ সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।
প্রথাগত পেশার বাইরে গিয়ে রন্ধনশিল্পকে যারা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চান, নাজমা সরকার তাদের জন্য আজ এক অনন্য রোল মডেল। তার এই পথচলা আগামী দিনের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

